THEME MODE
Light
Dark
TEXT SIZE
100%

বেলাকোবার ছেলে এখন খেলবে মোহনবাগানের হয়ে!

March 03, 2023 Reading...
বাবা ডিম বিক্রেতা আর মা গৃহবধু। সংসারে অভাব নিত‍্যসঙ্গী। যেন নুন আনতে পানতা ফুরোয়া! আর সেই ঘরের ছেলে সমীর (Samir)  সুযোগ পেল অনুরদ্ধ ১৫ হয়ে মোহনবাগান ফুটবল টিমের। সমীরের মোহনবাগানেে(Mohun Bagan)  সুযোগ পাওয়া নিয়ে খুশী তার মা বাবা, কোচ থেকে শুরু করে স্কুলের শিক্ষকেরাও।

বেলাকোবা হাইস্কুলে (Belakoba High School) নবম শ্রেণির ছাত্র সমীর দে সরকার। বাড়ি বেলাকোবার স্টেশন কলোনিতে (Belakoba Station Colony)। ছোটো বেলা থেকেই ফুটবলের প্রতি তার একটা আলাদা আকর্ষণ ছিল। ইচ্ছে ভারতের হয়ে আন্তর্জাতিক স্তরে ফুটবল খেলার। তাই ষষ্ঠ শ্রেণি থেকেই বেলাকোবার হাইস্কুল মাঠে ফুটবলের প্রশিক্ষণ নিতে যেত সমীর। এছাড়াও বিভিন্ন জায়গাতে ফুটবল (football) খেলে সমীরের ঝুলিতে জোগাড় হয়েছে একাধিক ট্রফি। তার বাবাও তাকে খেলার বিষয়ে নানা সাহায্য করত। 

গত কয়েকমাস আগেই সমীর অনুরদ্ধ ১৫ ইয়ুথ আইলিগ এর ট্রায়াল দিয়েছিল সেখান থেকে সমীর মোহনবাগান ফুটবল টিমে সুযোগ পায়। এরপর কলকাতায় খেলতে যায় সমীর। সেখানে অনুরদ্ধ ১৫ মোহনবাগানের হয়ে ম‍্যাচ খেলে। চ‍্যাম্পিয়ানও হয় সেই ম‍্যাচে। বতর্মানে কিছু দিনের জন্য সমীর ছুটিতে বেলাকোবায় আসছে। সম্ভবত দোল উৎসবের পর পর দলের ডাক আসলেই সমীরকে আবার কলকাতায় যেতে হবে। সীমরের মোহন বাগান দলে সুযোগ পাওয়ায় খুশী সমীরের প্রশিক্ষক তথা কোচ।

বতর্মানে সমীরের ইচ্ছে পূরনে বাধা হয়ে দাড়িয়েছে আর্থিক সমস্যা। সমীরের কলকাতায় যাতায়াত এবং সেখানে থাকা খাওয়া - দাওয়ার খরচ বহন করার সামর্থ্য নেই তার পরিবারের। সমীরের বাবা জানান, আমার ছেলে এতদুর গেছে আমি খুব খুশী, আমি চাই ও আরও এগিয়ে যাক, তবে আমাদের সামর্থ্য নেই ওর খেলার খরচ বহন করার।

সমীরের মা খুশীর কথা জানান। তবে তিনি দুঃখের সুরে বলেন ওর বাবা ডিম বিক্রি করে আর আমি মানুষের বাড়িতে রান্না করি এই করেই সংসার চলে তাতেই আমাদের সংসার ঠিক মতো চলে না তারমধ‍্যে সমীরের খেলার খরচ আর কি করে চলাবো। এদিকে সমীরের পরিবারের সমস্যার কথা জানতে পেরেই আবির মিত্র (Abir Mitra), রাজু দে সরকার সহ সমীরের স্কুলের শিক্ষকেরাও সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছে। তাদের সাহায্যেই সমীর কলকাতায় যেতে পেরেছিল। 

ভবিষ্যতে সমীরকে ফের কলকাতায় খেলতে যেতে হবে। তার জন্য প্রয়োজন অর্থ। কিন্তু পরিবারের পক্ষে তা দেওয়া কিংবা চালানো কোনোটাই সম্ভব নয়। তাই প্রশাসনিক কিংবা ব‍্যাক্তিগত সাহায্যের তাকিয়ে আছে তার পরিবার।