THEME MODE
Light
Dark
TEXT SIZE
100%

শিলিগুড়িতে ১৮ তলা সমান উঁচু শিব মূর্তি! মহাকাল মহাতীর্থের শিলান্যাস করলেন মুখ্যমন্ত্রী

January 16, 2026 Reading...
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
শিলিগুড়ি: সামনেই বিধানসভা নির্বাচন। আর ঠিক তার প্রাক্কালে উত্তরবঙ্গের শিলিগুড়ির মাটিগাড়ায় বহু প্রতীক্ষিত ‘মহাকাল মহাতীর্থ’ মন্দিরের শিলান্যাস করলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিন শিলান্যাস অনুষ্ঠানে এসে মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেন, এখানেই গড়ে উঠতে চলেছে বিশ্বের উচ্চতম মহাকাল মূর্তি। পাশাপাশি তাঁর দাবি, এই মন্দিরকে কেন্দ্র করে আগামিদিনে প্রচুর মানুষের কর্মসংস্থান হবে এবং স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্যেরও প্রসার ঘটবে।

কেমন হবে এই মহাকাল মহাতীর্থ?

জানা গিয়েছে, প্রায় ১৭.৪১ একর বিশাল জমির ওপর গড়ে উঠবে বিশ্বের অন্যতম এই বৃহত্তর শিব মন্দির। মন্দিরটি এমনভাবে তৈরি করা হচ্ছে যাতে রাস্তা থেকেই তা দৃশ্যমান হয়। এই মন্দির চত্বরেই তৈরি হচ্ছে বিশ্বের উচ্চতম মহাকাল মূর্তি, যার মোট উচ্চতা হবে ২১৬ ফুট। এর মধ্যে মূল ব্রোঞ্জের মূর্তিটির উচ্চতা ১০৮ ফুট এবং যে ভিত্তির ওপর এটি স্থাপিত হবে, তার উচ্চতাও ১০৮ ফুট রাখা হচ্ছে। প্রশাসনের অনুমান, এই তীর্থক্ষেত্রে দৈনিক প্রায় ১ লক্ষ মানুষের সমাগম হতে পারে।

মন্দিরের অন্দরসজ্জা ও বৈশিষ্ট্য:

মন্দিরের পরিকাঠামো নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন। জানা যায়, এই কমপ্লেক্সে থাকবে দু'তলা বিশিষ্ট মহাকাল মিউজিয়াম এবং একটি সংস্কৃতি হল। পূর্ব ও পশ্চিম দিকে তৈরি হবে দুটি নন্দী গৃহ। পাশাপাশি ভারতের দ্বাদশ জ্যোতির্লিঙ্গের আদলে ১২টি অভিষেক শিবলিঙ্গ মন্দিরও এখানে স্থাপন করা হবে। ভক্তদের সুবিধার্থে মন্দিরে দুটি প্রদক্ষিণ পথ রাখা হচ্ছে।

শিবালয়ের চিরাচরিত রীতি মেনেই মন্দিরের চার কোণে চার দেবতার অধিষ্ঠান হবে—দক্ষিণ-পশ্চিমে গণেশ, উত্তর-পশ্চিমে কার্তিক, উত্তর-পূর্বে শক্তি এবং দক্ষিণ-পূর্বে বিষ্ণু বা নারায়ণ। মন্দিরের দু'দিকে দুটি বিশাল সভা মণ্ডপ থাকবে, যেখানে ৬ হাজারেরও বেশি মানুষ একসঙ্গে বসতে পারবেন। এছাড়াও চত্বরে থাকবে রুদ্রাক্ষ ও অমৃত কুণ্ড, যেখান থেকে ভক্তরা পবিত্র অভিষেকের জল সংগ্রহ করে বাড়ি নিয়ে যেতে পারবেন।

পর্যটন ও অর্থনীতির প্রসার:

মন্দির চত্বরের ভেতরেই প্রসাদ বিতরণ কেন্দ্র, ক্যাফেটেরিয়া, ডালা কমপ্লেক্স এবং পুরোহিতদের থাকার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী জানান, এখানে একটি ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারও গড়ে তোলা হবে। এই মহাকাল মন্দিরকে কেন্দ্র করে একটি পূর্ণাঙ্গ পর্যটন হাব তৈরি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এদিন মুখ্যমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে এলাকাটি পর্যটকদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠবে। মন্দিরকে ঘিরে প্রচুর দোকানপাট, হোটেল এবং রেস্তোরাঁ তৈরি হবে, যার ফলে স্থানীয় স্তরে ব্যাপক কর্মসংস্থান ও ব্যবসার সুযোগ বাড়বে। আত্মবিশ্বাসের সুরে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, "বাংলাকে এক নম্বরে করব বলেছি, করবই।"