THEME MODE
Light
Dark
TEXT SIZE
100%

জলপাইগুড়ি সার্কিট বেঞ্চের স্থায়ী ভবনের মেগা উদ্বোধন আজ

January 17, 2026 Reading...
জলপাইগুড়ি সার্কিট বেঞ্চের স্থায়ী ভবন
নিজস্ব সংবাদদাতা, জলপাইগুড়ি: দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে আজ, শনিবার উত্তরবঙ্গের মানুষের জন্য খুলে যাচ্ছে কলকাতা হাইকোর্টের জলপাইগুড়ি সার্কিট বেঞ্চের স্থায়ী ভবনের দরজা। এই ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী হতে চলেছে গোটা উত্তরবঙ্গ। জানা গিয়েছে, জলপাইগুড়ির পাহাড়পুরে আয়োজিত এই মেগা উদ্বোধন অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকছেন সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি, কেন্দ্রীয় আইনমন্ত্রী এবং কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি সহ অন্যান্য বিচারপতিরা। পাশাপাশি অনুষ্ঠানে যোগ দিচ্ছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও।

শুক্রবার এই উপলক্ষ্যে সার্কিট বেঞ্চ চত্বরে ছিল সাজ সাজ রব। এদিন দিনভর চলে শেষ মুহূর্তের মহড়া এবং কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার প্রস্তুতি। জানা যায়, সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতিকে স্বাগত জানাতে প্রস্তুত রাখা হয়েছে পুলিশ ব্যান্ড ও ঐতিহ্যবাহী বৈরাতি নৃত্য। শুক্রবার কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতিদের উপস্থিতিতেই এই মহড়া পর্ব সম্পন্ন হয়। সকাল থেকেই আদিবাসী, রাভা ও বৈরাতি নৃত্যশিল্পীদের দলের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। অতিথিদের গাড়ি কোন গেট দিয়ে ঢুকবে, কীভাবে তাঁদের স্বাগত জানানো হবে এবং মঞ্চের অনুষ্ঠান শেষে কীভাবে নবনির্মিত ভবনের ফিতে কাটা হবে— সবকিছুরই পুঙ্খানুপুঙ্খ রিহার্সাল হয়েছে এদিন।
নিরাপত্তার প্রশ্নে কোনো ফাঁক রাখতে চাইছে না প্রশাসন। সূত্রের খবর, সার্কিট বেঞ্চের চারটি গেটেই সশস্ত্র পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। শুক্রবার থেকেই সাধারণ মানুষের প্রবেশাধিকারে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে এবং কঠোরভাবে চেক করা হচ্ছে সিকিউরিটি পাস। পুলিশ সুপার ওয়াই রঘুবংশী জেলার সমস্ত পুলিশ আধিকারিকদের নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেন। জানা গিয়েছে, নিরাপত্তার খাতিরে জলপাইগুড়ির পাশাপাশি কোচবিহার, আলিপুরদুয়ার, দার্জিলিং এবং কালিম্পং থেকেও পুলিশ আধিকারিকদের নিয়ে আসা হয়েছে। এমনকি, সাদা পোশাকে কর্মরত পুলিশকর্মীদের জন্য বিশেষ ড্রেসকোডও চালু করা হয়েছে। সূত্রের খবর, আজ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন এবং অনুষ্ঠান শেষে বাগডোগরা বিমানবন্দর হয়ে তাঁর কলকাতায় ফেরার কথা রয়েছে।
তবে এই মাহেন্দ্রক্ষণেও রাজনৈতিক তরজা অব্যাহত। এদিন তৃণমূল লিগ্যাল সেলের সভাপতি গৌতম দাস দাবি করেন, স্টেশন রোডের অস্থায়ী ভবন তৈরিতে ৮০ কোটি এবং পাহাড়পুরের এই স্থায়ী পরিকাঠামো নির্মাণে রাজ্য সরকার ৫০১ কোটি টাকা খরচ করেছে। অন্যদিকে, বিজেপির জেলা মুখপাত্র ধীরাজমোহন ঘোষ এক সাংবাদিক সম্মেলনে জানান, স্থায়ী পরিকাঠামো নির্মাণের এক্তিয়ার রাজ্যের হলেও যাবতীয় অনুমোদন কেন্দ্র সরকারই দিয়েছে। যদিও বিজেপির জেলা সভাপতি শ্যামল রায়ের দাবি, বিচার বিভাগীয় পরিকাঠামোর উন্নতিতে কেন্দ্রও অর্থ সাহায্য করেছে।

রাজনৈতিক মহলের মতে, পরিকাঠামো নিয়ে এই টানাপোড়েনে তৃণমূল কিছুটা এগিয়ে থাকলেও বিজেপি এদিন প্রধানমন্ত্রী ও স্থানীয় মানুষকে ধন্যবাদ জানিয়ে শহরে মিছিল বের করে। তবে জানা গিয়েছে, সার্কিট বেঞ্চের স্থায়ী ভবনের সামনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তৃণমূল নেতাদের টাঙানো সমস্ত হোর্ডিং পুলিশ খুলে দিয়েছে। এতকিছুর মধ্যেও অবশ্য সার্কিট বেঞ্চ আন্দোলনের বর্ষীয়ান আইনজীবী কমলকৃষ্ণ বন্দ্যোপাধ্যায় রাজনীতিকে দূরে সরিয়ে রাখতেই পছন্দ করছেন। তাঁর মতে, উদ্বোধনী পর্ব সুষ্ঠুভাবে মিটে গিয়ে এই ভবনে যাতে ভালোভাবে কাজ শুরু হয়, এখন সেটাই অগ্রাধিকার।