ডিজিটাল বিপ্লবে নয়া মোড়: দেশজুড়ে দ্রুতগতির ওয়াইফাই ৭ চালুর সবুজ সংকেত দিল কেন্দ্র
নির্দেশিকা ও কারিগরি তথ্য: সরকারি বিজ্ঞপ্তি সূত্রের খবর, ৫৯২৫ মেগাহার্টজ থেকে ৬৪২৫ মেগাহার্টজ পর্যন্ত মোট ৫০০ মেগাহার্টজ স্পেকট্রাম এখন থেকে লাইসেন্স ছাড়াই ব্যবহার করা সম্ভব হবে। তবে এই পরিষেবার ক্ষেত্রে কিছু নির্দিষ্ট নিয়মাবলী জারি করা হয়েছে:
* এটি মূলত বাড়ির ভেতরে (ইনডোর) কম শক্তির এবং বাইরে অতি স্বল্প শক্তির ওয়াইফাই ব্যবহারের জন্য বরাদ্দ থাকবে।
* ওয়াইফাই রাউটার বা অ্যাক্সেস পয়েন্ট স্থাপনের ক্ষেত্রে এখন থেকে আলাদা করে সরকারি দপ্তরের অনুমতি নেওয়ার প্রয়োজন পড়বে না।
* পুরো নেটওয়ার্ক ব্যবস্থাটি 'শেয়ার বেসিস'-এ পরিচালিত হবে, যাতে একে অপরের সংযোগে কোনো যান্ত্রিক ত্রুটি বা বাধা সৃষ্টি না হয়।
গ্রাম ও শহরের ডিজিটাল উত্তরণ: এদিন সরকারি মহলের তরফে জানানো হয়েছে, এই নয়া ব্যবস্থার ফলে দেশের অগণিত সাধারণ গ্রাহক, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং স্টার্টআপ সংস্থাগুলি আগের তুলনায় অনেক বেশি স্পিডে ইন্টারনেট ব্যবহার করতে পারবেন। এমনকি জেলার প্রত্যন্ত প্রান্তের সাধারণ মানুষও এই আধুনিক নেটওয়ার্কের সুফল ভোগ করতে পারবেন। তবে ৫জি অ্যাডভান্সড এবং ৬জি পরিষেবার ভবিষ্যৎ উন্নয়নের কথা মাথায় রেখে ৬৪২৫ থেকে ৭১২৫ মেগাহার্টজ পর্যন্ত অংশটি আপাতত সংরক্ষিত রাখা হয়েছে।
শিল্প মহলের অবস্থান: টেলিকম বিশেষজ্ঞদের সূত্রের খবর, কেন্দ্রের এই সিদ্ধান্ত নিয়ে শিল্প মহলে ভিন্ন মত লক্ষ্য করা গিয়েছে। অ্যাপল, মেটা, অ্যামাজন ও সিস্কোর মতো আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলি চেয়েছিল সম্পূর্ণ ১২০০ মেগাহার্টজ স্পেকট্রামই যেন লাইসেন্সমুক্ত করা হয়। অন্যদিকে, রিলায়েন্স জিও-র মতো সংস্থা এই পুরো ব্যান্ডটি নিলামের মাধ্যমে বন্টনের পক্ষে ছিল।
কড়া নজরদারি ও নিরাপত্তা: ইন্টারনেট পরিষেবার যাতে কোনো অপব্যবহার না হয়, তার জন্য কড়া অবস্থান নিয়েছে টেলিকম দফতর। জানা গিয়েছে, সিগন্যাল যাতে নির্দিষ্ট সীমার বাইরে না যায়, তার জন্য কারিগরি নিয়ন্ত্রণ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। উচ্চক্ষমতার অ্যান্টেনা বা মোবাইল টাওয়ারে এই স্পেকট্রাম ব্যবহার করা যাবে না। জিএক্স গ্রুপের সিইও পরিতোষ প্রজাপতি জানিয়েছেন, সরকারের এই দূরদর্শী সিদ্ধান্তে একদিকে যেমন দেশে ওয়াইফাই ৭ ব্যবহারের পথ পরিষ্কার হল, অন্যদিকে কঠোর সুরক্ষা বিধি মেনে লাইসেন্স ছাড়াই উন্নত ইন্টারনেট পরিষেবা পাবেন সাধারণ মানুষ।
