THEME MODE
Light
Dark
TEXT SIZE
100%

পুরীর জগন্নাথ ধাম উড়িয়ে দেওয়ার হুমকি! সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট ঘিরে তুঙ্গে নিরাপত্তা, আটক ১

January 21, 2026 Reading...
সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি পোস্টকে কেন্দ্র করে বুধবার ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়ালো ওড়িশার শ্রীক্ষেত্রে। জানা গিয়েছে, পুরীর দ্বাদশ শতকের ঐতিহাসিক ও পবিত্র জগন্নাথ মন্দির বোমা মেরে উড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছে। এই খবর প্রকাশ্যে আসতেই তড়িঘড়ি মন্দির চত্বরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্ছিদ্র করতে তৎপর হয়েছে পুলিশ প্রশাসন। বর্তমানে মন্দির চত্বরে জোরকদমে চলছে চিরুনি তল্লাশি।

সূত্রের খবর, মঙ্গলবার রাতে ফেসবুকে একটি বিতর্কিত পোস্ট প্রশাসনের নজরে আসে। সেই পোস্টে সরাসরি পুরীর জগন্নাথ ধাম ধ্বংস করার হুমকি দেওয়া হয়। মুহূর্তের মধ্যেই সেই পোস্টটি ভাইরাল হয়ে যায় এবং সাধারণ ভক্তদের মধ্যে আতঙ্কের সৃষ্টি হয়। বিষয়টি নজরে আসতেই পুরী পুলিশ অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত শুরু করে। জানা গিয়েছে, এই ঘটনায় জড়িত সন্দেহে পুলিশ ইতিমধ্যেই একজনকে আটক করেছে। তবে, যে মহিলার প্রোফাইল থেকে ওই পোস্টটি করা হয়েছিল, তিনি দাবি করেছেন— তাঁর নাম ও ছবি ব্যবহার করে অজ্ঞাতপরিচয় কেউ ভুয়ো অ্যাকাউন্ট (Fake ID) তৈরি করে এই কুরুচিকর পোস্টটি করেছে।

ঘটনার গুরুত্ব বুঝে এদিন খবর পাওয়ামাত্রই মন্দির চত্বর ও সংলগ্ন এলাকায় তল্লাশিতে নামে বম্ব স্কোয়াড ও ডগ স্কোয়াড। যেহেতু পুরীতে প্রতিদিন লক্ষাধিক ভক্ত ও পর্যটকের সমাগম হয়, তাই নিরাপত্তার প্রশ্নে বিন্দুমাত্র ঝুঁকি নিতে চাইছে না প্রশাসন। সিংহদুয়ার সহ মন্দিরের চারটি প্রধান প্রবেশপথেই মোতায়েন করা হয়েছে সশস্ত্র বাহিনী। ভক্তদের দর্শনে বাধা না দেওয়া হলেও, প্রত্যেককে কড়া মেটাল ডিটেক্টর ও শারীরিক তল্লাশির পরেই মন্দিরে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি, ভিড়ের মধ্যে সন্দেহভাজনদের ওপর নজর রাখতে সাদা পোশাকের পুলিশ কর্মীরাও মোতায়েন রয়েছেন।

এই বিষয়ে পুরীর পুলিশ সুপার প্রতীক সিং জানিয়েছেন, “মন্দিরে সর্বদা ত্রিস্তরীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা বজায় থাকে। তবে হুমকির বিষয়টি সামনে আসার পর নিরাপত্তা আরও আঁটোসাঁটো করা হয়েছে। ভক্তদের আতঙ্কিত হওয়ার কোনও কারণ নেই।”

উল্লেখ্য, গত বছরের জুলাই মাসেও মন্দিরের দেওয়ালে জঙ্গি হামলার হুমকি বার্তাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়িয়েছিল। সেই স্মৃতি উসকে দেওয়া এই নতুন সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট প্রশাসনকে আরও বেশি সতর্ক করে তুলেছে। বর্তমানে মন্দিরের নিরাপত্তা বলয় স্বাভাবিকের তুলনায় কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।