THEME MODE
Light
Dark
TEXT SIZE
100%

অরবিন্দ কেজরিওয়াল ও মণীশ সিসোদিয়ার বড় জয়, আবগারি মামলায় সসম্মানে মুক্তি দিল আদালত

February 27, 2026 Reading...
Arvind Kejriwal, Manish Sisodia, Delhi Excise Policy Case, CBI, AAP, Discharge by Court, West Bengal News, Khabar Banga.
খবর বঙ্গ ডিজিটাল ডেস্ক: দিল্লির বহুল চর্চিত আবগারি নীতি বা Delhi Excise Policy Case-এ বড়সড় স্বস্তি পেলেন আম আদমি পার্টির (AAP) দুই শীর্ষ নেতা। দিল্লির প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী Arvind Kejriwal এবং প্রাক্তন উপ-মুখ্যমন্ত্রী Manish Sisodia-কে এই মামলা থেকে সসম্মানে অব্যাহতি (Discharge) দিয়েছে বিশেষ আদালত। এদিন আদালতের রায়ে স্পষ্ট জানানো হয়েছে যে, কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা CBI অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আনা কোনো অভিযোগই অকাট্য প্রমাণের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত করতে পারেনি।

মামলার শুনানিতে আদালত অরবিন্দ কেজরিওয়ালকে মুক্তি দিয়ে পর্যবেক্ষণে জানায়, তাঁর বিরুদ্ধে আনা গুরুতর অভিযোগগুলোর স্বপক্ষে কোনো বস্তুগত ভিত্তি পেশ করতে ব্যর্থ হয়েছে সিবিআই। সূত্রের খবর, আদালত এদিন কড়া ভাষায় জানিয়েছে যে, পর্যাপ্ত তথ্যপ্রমাণ ছাড়া কাউকে ষড়যন্ত্রের কেন্দ্রীয় চরিত্র হিসেবে দাগিয়ে দেওয়া যায় না। প্রসিকিউশনের দাবি যদি ভিত্তিহীন হয়, তবে তা কেবল আইনি পরাজয় নয়, বরং সাধারণ মানুষের প্রশাসনিক ব্যবস্থার ওপর আস্থাও কমিয়ে দেয় বলে মনে করছে আদালত।

অন্যদিকে, মণীশ সিসোদিয়া প্রসঙ্গে বিচার বিভাগীয় পর্যবেক্ষণে জানানো হয়েছে যে, সিবিআই-এর পেশ করা নথিপত্র ধোপে টেকেনি। জানা গিয়েছে, সিসোদিয়ার কোনো অপরাধমূলক অভিপ্রায় খুঁজে পায়নি আদালত। বরং নথিপত্রগুলি পর্যালোচনার পর জানা যায়, এগুলি ছিল একটি নীতি প্রণয়নের স্বাভাবিক প্রশাসনিক প্রক্রিয়া বা আলোচনার অংশ মাত্র, কোনো দুর্নীতির প্রমাণ নয়।

এদিন কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার (CBI Investigation) ভূমিকা নিয়ে একাধিক প্রশ্ন তুলেছে দিল্লির আদালত। রায়ে জানানো হয়েছে যে, তদন্তের রেকর্ডে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিবৃতি ও মতামত বাদ দেওয়া হয়েছে, যা নিয়ে অসংগতি প্রকাশ পেয়েছে। এছাড়া, তিনজন আইনি বিশেষজ্ঞের মতামতের যে ব্যাখ্যা সিবিআই দিয়েছিল, তার স্বচ্ছতা নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করেছে আদালত। তদন্তকারী সংস্থার ব্যবহৃত ‘সাউথ গ্রুপ’ (South Group) শব্দটির কোনো স্পষ্ট আইনি বা তথ্যগত ভিত্তি নেই বলেও এদিন আপত্তি জানানো হয়। আদালতের মতে, সিবিআই-এর পেশ করা ষড়যন্ত্রের তত্ত্বে প্রচুর অভ্যন্তরীণ স্ববিরোধিতা রয়েছে।

আদালতের পর্যবেক্ষণে আরও জানা গিয়েছে যে, আবগারি নীতি প্রণয়নের প্রতিটি স্তরে একাধিক প্রাতিষ্ঠানিক আলোচনা ও পরামর্শ গ্রহণ করা হয়েছিল। ফলে একে কোনো একতরফা ষড়যন্ত্র হিসেবে দেখা ভুল বলে মনে করা হচ্ছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, দিল্লির রাজনীতিতে আম আদমি পার্টির জন্য এটি এক বিশাল নৈতিক জয়। দীর্ঘ কারাবাস এবং রাজনৈতিক চাপের পর আদালতের এই রায় অরবিন্দ কেজরিওয়াল ও মণীশ সিসোদিয়ার রাজনৈতিক ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধারে বড় অস্ত্র হয়ে দাঁড়াল।